বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

সুরজিৎ খাঁ: বাবরি মসজিদ ধ্বংস হওয়ার ২৫ বছর অতিক্রান্ত। ১৯৯২ সালের একটি রাজনৈতিক সমাবেশের উদ্যোক্তারা ভারতীয় সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুযায়ী মসজিদ ক্ষতিগ্রস্থ হবে না এই প্রতিশ্রুতি দিয়ে মসজিদ সংলগ্ল এলাকায় একটি রাজনৈতিক সমাবেশ শুরু করে। যা দেড় লক্ষ জন সম্মিলিত একটি দাঙ্গার রুপ নেয়। এই দাঙ্গার ফলে মসজিদটি সম্পূর্ণরূপে ভূমিসাৎ করা হয়। ফলস্বরূপ ওই একই সালে ভারতের প্রধান শহরগুলোতে সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা সংঘটিত হতে থাকে। ছড়িয়ে পড়া এসব দাঙ্গার মধ্যে কেবলমাত্র মুম্বাই ও দিল্লীতেই দুই হাজার মানুষের প্রাণ যায়। ২০০৯ সালে লিবারহান কমিশনের রিপোর্টে মন্দির ভাঙার জন্য তৎকালীন বিজেপি নেতাদেরই দায়ী করা হয়। আর ২৫ বছর পর বিজেপি নেতৃত্বই দেশের শীর্ষ নেতৃত্ব।

বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ২৫ বছর
অনুষ্ঠানে মানুষের ঢল

প্রসঙ্গত বাবরি মসজিদ এর পূর্বতন হিন্দু দেবতা রামচন্দ্রের জন্মস্থান, রাম মন্দির, নাকি মোগল সম্রাট বাবর শাহ-র আমলে নির্মিত একটি মসজিদ যদিও এ নিয়ে আজও নিশ্চিত কোনো মত মেলেনি।

“২৫ বছর আগে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গেছে যারা শ্রমজীবী মানুষ তাঁদের করবে দেশ ছাড়া।” এমনই মহড়া দিয়ে বুধবার শিয়ালদহ স্টেশন ও বাগবাজার এলাকায় বিভিন্ন সংগঠনের তরফে মিছিল ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন মৌসুমী ভৌমিক, পারভীন সুলতানা, শ্যামসুন্দর দাস প্রমুখ। এছাড়াও ইয়াং বেঙ্গল , ইনডিয়ান পিপলস কালচারাল ফেডারেশন ও অন্যান্য সংগঠনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত হয় এই অনুষ্ঠান। উল্লেখ্য এদিনের সভায় নৃত্য, সংগীত ও নাট্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে ইতিহাসের এই কালো দিনটির নানান ঘটনা তুলে ধরা হয়। এককথায় বলা যায়, বাবরি মসজিদ ধ্বংসের২৫ বছর পূর্তিতে সাম্প্রদায়িক অনুষ্ঠানেরই আয়োজন করে এই সংগঠনগুলি।

এদিনের সভায় বিভিন্ন সংগঠন গুলির বক্তব্যে তৎকালীন বিজেপি নেতা থেকে শুরু করে কংগ্রেস নেতাদের অসক্রিয়তার কথাই ফুটে উঠেছে। এতগুলো বছরেও নিষ্পত্তি ঘটেনি এই ঘটনার। ফলত তাদের এই আন্দোলন বছর বছর চলবে বলেই জানিয়েছেন তাঁরা।

এ প্রসঙ্গে এদিনের সভা থেকে নব দত্ত বলেন, “ ভারতবর্ষের রাজনীতিতে বারংবার এই ঘটনাকে তুরুপের তাস হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় ও হিন্দুদের সমর্থন পেতে এই ঘটনাকে তাস হিসেবে ব্যবহার করেছেন রাজনৈতিক দলগুলি।” পাশাপাশি তাঁর বক্তব্যে উঠে আসে শ্রমজীবি মানুষদের বস্তিবাসীদের অন্যায় ভাবে উচ্ছেদ করার কথা, এই ঘটনার পর তাদের বিপর্যস্ত জীবন যাপনের কথা। তাদের পাশে থাকতে তাদের উদ্যোগের কথাও জানান সংগঠনগুলি।

তবে এক্ষেত্রে বলা দরকার, বাবরি মসজিদ নিয়ে সংঘাত ঘটেছে বার বার৷ অথচ ফৈজাবাদ জেলার ১৯০৫ সালের গ্যাজেটিয়ার অনুযায়ী ১৮৫৫ সাল অবধি নাকি হিন্দু এবং মুসলমান, দুই সম্প্রদায়ই সংশ্লিষ্ট ভবনটিতে প্রার্থনা ও পুজা করেছে৷ কিন্তু সিপাহী বিদ্রোহের পরই ঘটে এমন বিপত্তি। তবে, ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বরের পর থেকে ভারতীয় রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রেক্ষাপট সবসময়ের জন্য বদলে গিয়েছে তা আলাদা করে বলার অপেক্ষা রাখে না।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *