ভোজনবিলাসী রবি

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

২৫ শে বৈশাখ মানেই বাঙালির আর এক আনন্দ উৎসবের দিন। দিনটি রবি ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী হিসাবেই পালিত হয় বাংলা সহ গোটা বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে। ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দের ৯ মে (বাংলা বর্ষপঞ্জি পরিবর্তনে এখন বাংলাদেশে ৮ মে) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে তিনি জন্মগ্রহণ করেন।

সকলের প্রিয় রবি ঠাকুর একজন কবির পাশাপাশি তিনি যে বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী ছিলেন তা কারুরই অজানা নয়। । তিনি যেমন একাধারে একজন সঙ্গীতজ্ঞ, কথাসাহিত্যিক, নাট্যকার, চিত্রশিল্পী, দার্শনিক, প্রাবন্ধিক, শিক্ষাবিদ ও সমাজ সংস্কারক। অন্যধারে, পৃথিবীর সাহিত্য, সংস্কৃতি, সভ্যতা ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের পরিবর্তনকে তিনি আত্মস্থ করেছিলেন। তিনি সেই প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে গেছেন ৫৬টি কাব্যগ্রন্থ, ১১৯টি ছোটগল্প, ১২টি উপন্যাস, ২৯টি নাটক, ৯টি ভ্রমণ কাহিনী, ২২৩২টি গান ও দেশ- বিদেশে দেওয়া নানা বক্তৃতার মাধ্যমে।

এতটুকুতো বেশিরভাগ রবীন্দ্র প্রেমীর সম্ভব্য জানা, তবে আরও বিশদ কিছু জানা অজানা তথ্যের দিকে চোখ রাখা যাক।

২৫-শে বৈশাখের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষেই শুধু যে তিনি আমাদের মনে প্রানে বিরাজ করেন এমনটা নয় আপামর বাঙালির কাছে সারা বছরই রবীন্দ্রনাথ একটি আবেগ। কাঠফাটা দুপুরের পর বিকেলের কালবৈশাখীর সাথে আমাদের মনও গেয়ে ওঠে ‘আজই ঝড়ো ঝড়ো মুখর বাদল দিনে’।

রবীন্দ্রনাথ তো আমাদের মধ্যে সর্বদাই বিরাজ করেন, কিন্তু অনেকেই তাঁর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে অবগত নন। তাহলে এবার ঢু মারা যাক রবি ঠাকুরের পছন্দের খাবারের দিকেও!

রবীন্দ্রনাথ ছিলেন খাদ্য রসিক। তাঁর লেখায় আমরা দেখেছি – ‘আমসত্ত্ব দুধে ফেলি, তাহাতে কদলি দলি সন্দেশ মাখিয়া….”। শুধু আমসত্ত্ব দুধ নয় রবিঠাকুরের পছন্দের তালিকায় ছিল নিমপাতার সরবতও। ঠাকুরবাড়ির রান্নাঘরে বিভিন্ন সময়ে তিনি বিভিন্ন পদে প্রচলন করেন, যার মধ্যে এঁচোড় মুরগি, সরষে কই, পটলের দোলমা প্রভৃতি ছিল জনপ্রিয়।

রবীন্দ্রনাথের জীবনী ঘাটতে গিয়ে জানা যায় মাত্র ১২ বছর বয়সে বাবা মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সাথে বিদেশ ভ্রমণ শুরু। এরপর তাঁর জীবদ্দশায় তিনি বহু দেশ ঘুরেছেন। এবং সেই সূত্রে বিভিন্ন জায়গার বিখ্যাত খাবার যেমন ঠাঁই পেয়েছে তার সাহিত্যে ঠিক তেমনই ঠাকুরবাড়ির রান্নাঘরেও দেশি বিদেশি বহু পদ। শোনা যায় ইউরোপ থেকে ফেরার পর ফ্রুট স্যালাড তাঁর রোজের মেনুতে ঠাঁই পেত। চা রবীন্দ্রনাথের নিত্য সঙ্গী ছিল। তবে এই বিষয়ে বেশ শৌখিন ছিলেন কবি। কবির পছন্দের তালিকায় ছিল জাপানি চা। চা খাওয়ার ক্ষেত্রেও জাপানের রীতিতে বৈঠকি মেজাজে সবার সঙ্গে আড্ডা দিতে দিতে চা খেতে পছন্দ করতেন তিনি।

কবির স্ত্রী মৃলালিনী দেবীর রান্না বেশ জনপ্রিয় ছিল ঠাকুরবাড়িতে। শোনা যায় মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরও খুব তারিফ করত তাঁর বৌমার রান্নার। রবীন্দ্রনাথের খামখেয়ালি ইচ্ছা রাখতে অনেক সময় মাঝরাতেও রান্নাঘরে যেতে হতো মৃলালিনী দেবীকে। কবির পছন্দের তালিকার বেশ কিছু খাবার বানানোর ক্ষেত্রে পারদর্শিতা অর্জন করেছিলেন মৃলালিনী দেবী। যেমন কাঁচা ইলিশের ঝোল, চিতল মাছ আর চালতা দিয়ে মুগেরডাল, নারকেল চিংড়ি প্রভৃতি। কাঁচা আমের আচারও বেশ প্রিয় ছিল রবীন্দ্রনাথের। শোনা যায় কাদম্বরী দেবী লুকিয়ে কাঁচা আম এনে দিতেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরকে । কাঁচা আম দিয়ে টক ডাল বা আঁচার বানিয়েও কবির মন জয় করেছিলে মৃলালিনী দেবী। কলকাতার ঠাকুরবাড়িতে এখনো সযত্নে সাজানো আছে মৃলালিনী দেবীর চিনামাটির বাসন ও চুলা।

রবীন্দ্রনাথের অন্যান্য প্রিয় খাবারের মধ্যে ছিল একাধিক কবাবও । যেমন স্রুটি মিঠা কাবাব, হিন্দুস্থানি তুর্কি কাবাব, চিকেন নোসি কাবাব।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

১৯১২ সালে লন্ডনে গীতাঞ্জলি ইংরাজি অনুবাদে প্রকাশের দিন একটি নৈশভজের আয়োজন করা হয়েছিল ইন্ডিয়ান সোসাইটি, লন্ডন-এ। সেদিনের মেনু ছিল কবির প্রিয় খাবার। খাদ্য তালিকায় ছিল গ্রিন ভেজিটেবল স্যুপ, ক্রিম অফ টম্যাটো স্যুপ, স্যামম ইন হ্যালান্ডেন সস এন্ড কিউকামবার, প্রি সল্টেড ল্যাম্ব উইথ গ্রিন ভেজিটেবল, রোস্টেড চিকেন, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, গ্রিন স্যালাড ,আইসক্রিম।

এছাড়াও ঠাকুরবাড়ির রান্নার মেনুতে নিয়মিত থাকতো শুক্ত আর দইমাছ। শেষ পাতে মিষ্টি এবং পান কবির বেশ প্রিয় ছিল।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *