ফুটো মস্তান থেকে ভিআইপি, প্রত্যেককে চিনে নেবে ক্যামেরা

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

তরুনা মণ্ডল

চোর হোক বা ডাকাত, খুনি হোক বা পকেটমার, অথবা হোক না পাড়ার কোন ফুটোমস্তান থেকে ধর্ষক কেউ ছাড় পাবে না। ভিড়ের মধ্যে মিশে থাকলেও চিনে নেবে ক্যামেরার চোখ। সঙ্গে সঙ্গে অ্যালার্ম বাজবে লালবাজার ও স্থানীয় থানায়। এভাবে হাতেনাতে ধরা পড়বে অপরাধী। এমনই নতুন প্রযুক্তি-সহ ক্যামেরা বসানোর প্রক্রিয়ায় তৎপর কলকাতা পুলিশ। 

আপাতত শহরের চারটি পয়েন্টে পরীক্ষামূলক ভাবে এরকম ৩৪টি ক্যামেরা বসানোর কথা বলা হয়েছে। তারপরে ধাপে ধাপে দু’শোর বেশি এই নতুন প্রযুক্তিবিশিষ্ট ক্যামেরা বসবে। এছাড়াও শহরের বর্তমান ক্যামেরাগুলিকেও এই প্রযুক্তির আওতায় আনা যায় কি না, তা খতিয়ে দেখছেন লালবাজারের আধিকারিকরা। এব্যাপারে পরামর্শ নেওয়া হচ্ছে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের।

শুধু অপরাধী নয়, এই ক্যামেরা চিনে নিতে পারবে ভিআইপি তথা ভিভিআইপিদেরও। তাঁরা কোথাও গেলে, লালবাজারে বসেই তাঁদের গতিবিধি সম্পূর্ণটা ‘মনিটর’ করতে পারবে পুলিশ। এর জেরে যেকোন জরুরি প্রয়োজনে তাঁদের রুট বদল থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছনো — সবটাই সম্ভবপর হবে চোখের নিমেষে। পুলিশি পরিভাষায় এই বিশেষ প্রযুক্তির নাম ‘ফেস রেকগনিশন সিস্টেম’। অর্থাৎ মুখাবয়ব চিহ্নিতকরণের স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি। 
এই যন্ত্র কী ভাবে চিনবে ব্যক্তিত্বকে?
পুলিশ সূত্রের খবর, ইতিমধ্যেই শহরের বিভিন্ন থানা এবং গোয়েন্দা পুলিশ অপরাধীদের তথ্যপঞ্জি সংগ্রহ শুরু করে দিয়েছে। নানা অপরাধে অভিযুক্তদের মুখ, চোখের মণি, আঙুলের ছাপ-সহ বিভিন্ন তথ্য জমা হচ্ছে কেন্দ্রীয় সার্ভারে। পুলিশ আধিকারিকরা অভিযুক্তদের চিনে নিতে সেই তথ্য ব্যবহার করছেন। এ বার ফেস রেকগনিশন সিস্টেমের সঙ্গে সেই সার্ভারের সংযোগ করা হবে। তাতে কোনও অধরা অপরাধী ভিড়ের মধ্যে নিজেকে আড়াল করার চেষ্টা করলেও ক্যামেরা ঠিক সেটা চিনে নিয়ে অ্যালার্ম বাজিয়ে দেবে। এছাড়াও দীর্ঘদিন এলাকার কোন দাগি দুষ্কৃতী, মস্তান, ছিঁচকে চোর বা পকেটমার থেকে খুনি, গ্যাংস্টার বা তোলাবাজ — যত বেশি সম্ভব অভিযুক্তের ছবি ও শনাক্তকরণ চিহ্ন সার্ভারে মজুত করার জন্য সব স্তরের পুলিশকর্মীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

পুলিশ সূত্রের খবর, আপাতত প্রেসিডেন্সি সংশোধনাগার ও তার সংলগ্ন এলাকা, বেকবাগানের একটি শপিং মল ও তার আশপাশ, পার্ক স্ট্রিট ও ফ্রি-স্কুল স্ট্রিটের মোড় এবং পার্ক স্ট্রিট ও রফি আহমেদ কিদোয়াই রোডের মোড়ে এই প্রযুক্তি ব্যবহারের পরিকল্পনা হয়েছে। আপাতত শহরের এই কটা জায়গাতে এই প্রযুক্তি কিছুদিন ব্যবহার করে দেখা হবে তাতে কতটা সুবিধা মিলছে। তারপরে প্রয়োজনীয় পরিমার্জন বা সংশোধনের সুযোগ থাকলে তা করা হবে বলে লালবাজারের এক কর্তা জানিয়েছেন। সাফল্য ঠিকঠাক মিললে শহরজুড়ে ব্যবহার হবে এই প্রযুক্তি। ইউরোপ-আমেরিকার পাশাপাশি দেশের কয়েকটি মেট্রো শহরেও পুলিশ এই প্রযুক্তি ব্যবহার করছে।

এবিষয়ে এক পুলিশ আধিকারিকের বক্তব্য — এ রাজ্যে নারী ও শিশু পাচারের ঘটনা অনেক বেশি। নিখোঁজ মহিলা ও শিশুদের ছবিও কেন্দ্রীয় সার্ভারে জমা করে তা নতুন প্রযুক্তির মাধ্যমে সহজে শনাক্ত করার ব্যবস্থা করা যায়। সেই ভাবনাও রয়েছে পুলিশকর্তাদের। 

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *