আলোর কুপ্রভাবে ছেয়ে রয়েছে তিলোত্তমাবাসী

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

তরুনা মণ্ডল

এলইডি আলোর কুপ্রভাব নিয়ে চিকিৎসকরা যতই চিন্তিত হোন, কলকাতা শহর সাজাতে এবং বিদ্য‌ুৎ খরচ বাঁচাতে তিলোত্তমার বুকে সেই আলোরই ব্যবহার বেড়েই চলেছে প্রচুর৷ যেখানে বিশ্বের বিভিন্ন উন্নত দেশগুলি, যেমন ইউরোপ-আমেরিকা এলইডি আলোর ব্যবহার কমাচ্ছে, তখনও উল্টোপথে হাঁটছে আমাদের শহর কলকাতা৷ এখানে সৌন্দর্যায়নের জন্য ভেপার ল্যাম্প তুলে এলইডি লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে৷ রাজ্যের অন্য মফস্বল এলাকাগুলোর রাস্তাতে এলইডি আলো বসানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে রাজ্য পুর ও নগরোন্নয়ন দপ্তর৷ পুরসভাগুলি জানিয়ে দিয়েছে, এলইডি ছাড়া অন্য কোনও আলো লাগালে তার দায়ভার নেবে না সরকার৷ এমনকি রাজ্য পূর্ত দপ্তরের অধীনে যে সব সরকারি ভবন রয়েছে, সেখানেও শুধুমাত্র এলইডি আলো লাগানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে৷ গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইওভার এবং ত্রিফলা বাতিস্তম্ভের গায়েও নীল-সাদা এলইডি স্ট্রিপ লাগানো হয়েছে৷ সম্প্রতি কলকাতার বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে বসানো হয়েছে এলইডি হোর্ডিং৷ এলইডি’র বাহারি আলোয় রাতের শহর মায়াবি লাগলেও তার কুফল কিন্তু ভোগ করবে কলকাতাবাসীই৷ 

গোটা শহর ছেঁয়ে রয়েছে এই ক্ষতিকারক আলো
গোটা শহর ছেঁয়ে রয়েছে এই ক্ষতিকারক আলো

এদিকে একাধিক গবেষণা রিপোর্ট বলছে, এলইডি আলোর ঔজ্জ্বল্য বেশি হলেও তার দ্বারা মানব শরীরে ক্ষতিসাধনের আশঙ্কা থেকে যায়৷ নীল এলইডি থেকে ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মি নির্গত হয়৷ সাধারণত আলোর তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৩৯৭ থেকে ৭২৩ ন্যানোমিটারের মধ্যে থাকলে ক্ষতিকর নয়৷ কিন্তু অধিকাংশ এলইডি বাল্বের তরঙ্গ দৈর্ঘ্য ৩৯৭ ন্যানোমিটারের কম হয় বলে তা স্বাস্থ্যের পক্ষে হানিকারক৷ চিকিৎসকরা জানাচ্ছেন, অতি বেগুনি রশ্মি চোখের লেন্সকে অস্বচ্ছ করে দেয়৷ সাধারণ বাংলায় যাকে বলে চোখে ‘ছানি’ পড়া৷ এছাড়াও এলইডি আলোর প্রভাবে চোখের কর্নিয়ার উপর ‘টেরিজিয়াম’ বলে একটা পাতলা আবরণ পড়ে যায়৷ যার জন্য সামনের সব জিনিসকে দু’টো বলে মনে হয়৷ বিশেষ করে গাড়ি চালকদের কাছে এটা খুবই বিপজ্জনক৷ আলোক বিজ্ঞানী ধনঞ্জয় বিশ্বাস ব্যাখ্যা দিয়েছেন, রাস্তার আলো সবসময় উপর থেকে নীচের দিকে আসে৷ ফলে আলোকরশ্মি চালকের চোখে ঠিকরে পড়ে না৷ যদিও কলকাতায় যে ভাবে ত্রিফলা বাতিস্তম্ভে এলইডি স্ট্রিপ লাগানো হয়েছে, তাতে কিন্তু সেই আলো সরাসরি চালকের চোখে লাগে৷

কলকাতা ট্রাফিক পুলিশের একাধিক আধিকারিক স্বীকার করেছেন, রাস্তায় এলইডি আলো বসার পর থেকে অনেকেই রাতে গাড়ি চালাতে অস্বস্তি বোধ করছেন৷ বিশেষ করে ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে গাড়ি চালাতে সমস্যা হচ্ছে একাধিকের৷ এই বিষয়ে অনেকেই তাঁদের কাছে মৌখিক ভাবে অভিযোগ জানিয়েছেন৷ তবে তার ফলে কোনও দুর্ঘটনা ঘটছে কিনা, সে ব্যাপারে তাঁরা সঠিকভাবে ভাবে কিছু বলতে পারছেন না৷ ট্রাফিক বিভাগের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, কয়েক বছর আগে রাস্তায় এলইডি হোর্ডিং বসানোর সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করে পুরসভাকে চিঠি দিয়েছিল কলকাতা পুলিশের ট্রাফিক বিভাগ৷ ডেপুটি কমিশনারের (ট্রাফিক) সই করা ওই চিঠিতে জানানো হয়েছিল, এলইডি ডিসপ্লে বোর্ডের আলোয় গাড়ি চালকদের সমস্যা হয়৷ সে কারণে এলইডি হোর্ডিং বসানোর অনুমতি আটকে দেয় কলকাতা পুলিশ৷ যদিও তার পরেও শহরের বিভিন্ন প্রান্তে এলইডি ডিসপ্লে বোর্ড বসে রয়েছে। যদিও এদিকে পুরমন্ত্রী ফিরহাদ হাকিমের বক্তব্য, বিদ্যুৎ সাশ্রয়ের জন্য সারা পৃথিবীতেই এলইডি আলোর ব্যবহার বেড়েছে৷ কেন্দ্রীয় সরকারও এই নীতি নিয়ে চলছে৷ তাই এলইডি ব্যবহারে কোনও অন্যায় দেখতে পাচ্ছেন না তিনি৷

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *