রিভলবার দাদি : পারকাশি টোমার

রিভলবার দাদি : পারকাশি টোমার
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

সুরজিৎ খাঁ : পারকাশি টোমার এক নামে যিনি হলেন ‘শুটার দাদি’ বা ‘রিভলবার দাদি’। নিশ্চই ভাবছেন রিভলবার রানী, রিভলবার রাজা তো শুনেছি ইনি আবার কে হে? কিইবা তাঁর পরিচয়? কেনই বা ইনি ‘রিভলবার দাদি’?

কি ‘দাদি’ অক্ষর দেখে মনে হচ্ছে তো কোনো বয়স্ক মহিলা হবে ? আজ্ঞে হ্যাঁ বয়স্ক মহিলাই বটে। তবে তাঁর অবরাব কর্তৃত্ব সালাম যোগ্য। এখনো পর্যন্ত তিনিই হলেন বিশ্বের বয়স্ক মহিলা শুটার। আর যিনি একজন ভারতীয়। আসুন জানি তাঁর কিছু জানা অজানা তথ্য।

রিভলবার দাদি : পারকাশি টোমার
পারকাশি টোমার

জন্ম ১লা জানুয়ারি ১৯৩৭ সালে উত্তরপ্রদেশের মুজাফ্যার নগরে, এরপর আস্তে আস্তে বড় হয়ে ওঠা। বয়স হলে বিয়ে হয় উত্তরপ্রদেশেরই ভাগপাত এর জোরি গ্রামের টোমার পরিবারে। তিনি কোনোদিনও বিদ্যালয়ে যাননি। প্রতিষ্ঠানিক শিক্ষা নেই। তিনি গৃহবধূ হিসাবে গৃহস্থালি ও কৃষিকাজে নিপুণ। তবে বরাবরই দাদি নিজের একটা আলাদা পরিচিত তৈরি করতে চেয়েছিলেন।

সেজন্য, যখন তাঁর ৬০ বছর বয়স হঠাৎ একদিন নাতনীর সাথে শুটিং রেঞ্জে গিয়েছিলেন। তারপরই তিনি আগ্রহী হন। এবং পরপরই কয়েকদিন ধরে শুটিং রেঞ্জে গিয়ে শুটিং কৌশল দেখতে আরম্ভ করলেন। দাদির আগ্রহ দেখে সেখানকার প্রশিক্ষকরা হাতে বন্দুক দিয়ে কয়েকটি বস্তু স্থির করে নিশানা করতে বলেন। তার বন্দুক চালানো দেখে প্রশিক্ষকরা তাকে উৎসাহ দেন।

”আমি ভেবেছিলাম মানুষ আমাকে দেখে হাসাহাসি করবে। কারণ আমার অনেক বয়স হয়েছে” বলেছিলেন পারকাশি টোমার।

এরপর দাদি গোপনে শুটিং প্রশিক্ষণ চালিয়ে যান। হাতের ব্যালেন্স ধরে রাখার জন্য একটি জলের পাত্র একটানা ধরে রাখতেন। ফলে মানুষজন তারদিকে তাকিয়ে হাসাহাসি করতো। তবে বর্তমানে দাদি একজন প্রতিষ্ঠিত শুটার। বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করে ৩০ টিরও অধিক পদক জিতেছেন। টেলিভিশননে তাকে নিয়ে বিভিন্ন অনুষ্ঠানও হয়েছে।

এখানেই শেষনয়, এখন তিনি যৌতুক বিরোধী ভূমিকায় নিমেছেন। উত্তরপ্রদেশের যৌতুক দাবিতে নারীদের হত্যা হামেশাই ঘটে। তবে ‘দাদির’ জোরেই তাঁর গ্রামের পরিস্থিতি ভিন্ন। এমনকি দাদির গ্রামে মেয়ের বিয়ের সময় যৌতুক চাওয়া হয় না। লোকে বলে, ‘যৌতুক চাইলে দাদি গুলি করে মারবে’।

‘শুটার দাদির’ সাফল্য অর্জনে অনেক নারীই আপ্লুত ও অনুপ্রাণিত। এক নারী শুটারের কথায়, ‘ আমার মনে হয় দাদি যদি পারেন তাহলে আমিও পারবো। দাদিকে দেখে আমি অনুপ্রাণিত’। বর্তমানে ‘শুটার দাদির’ লক্ষ্য তার গ্রামে এক আন্তর্জাতিক মানের শ্যুটিং কেন্দ্র গড়ে তোলার।

১লা জানুয়ারি ৮১ বছরে পা দিতে চলেছেন দাদি। দাদির এই জন্মদিবসে আমাদের খাস খবরের তরফ থেকে তাঁকে জানাই আন্তরিক ভালোবাসা ও শুভেচ্ছা। দাদি তোমার সব আশা যেন পূরণ হয় ও তুমি যেন মহিলা সমাজের কাছে আরও অনুপ্রেরণা দায়ক হয়ে উঠতে পারো।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *