লকগেট ভাঙল কেন!তদন্তে রাজ্যের সেচ দফতর

লকগেট ভাঙল কেন!তদন্তে রাজ্যের সেচ দফতর
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

ওয়েব ডেস্ক: ২৪শে নভেম্বর ভেঙে পরে দুর্গাপুর ব্যারেজের ১ নং লকগেট। তৎকালীন পরিস্থিতি সামাল দিতে গেটের মুখে চাপা দেওয়া হয় বালির বস্তা। তবে দামোদর থেকে অতিরিক্ত জল বেরিয়ে যাওয়ার ফলে জলশূন্য হয়ে পড়ে দামোদর। ফলে সমস্যায় পড়তে হয় বড় বড় কারখানা গুলিকে। কোথা থেকে আসবে এই বিপুল পরিমাণ জলের যোগান তা নিয়ে আশঙ্কায় পড়তে হয় কারখানাগুলিকে।

তবে হঠাৎ কেন ভাঙল দুর্গাপুর ব্যারেজের ১ নম্বর লকগেট ? সে বিষয়ে তদন্ত করতে রাজ্য সেচ দপ্তরের তরফে গঠন করা হল কমিটি।

প্রসঙ্গত ১৯৫৫ সালে তৈরি হয়েছিল লকগেট। নাম না করে বামেদের কটাক্ষ করেন তিনি। বলেন, “একটা সরকার দীর্ঘদিন ছিল। কিন্তু, তারা সেভাবে লকগেটের দেখাশোনা করেনি। শুধু খবরের কাগজ ও টিভিতে মুখ দেখানোর জন্য সমালোচনা করেছেন।”

লকগেট বিশেষজ্ঞদের মতে, দীর্ঘ ৬২ বছর জলে থাকার জন্য লকগেটের লোহার ক্ষমতা বিলীন হয়ে পড়ায় এই বিপত্তি।

২৬শে নভেম্বর দুর্গাপুর ব্যারেজ পরিদর্শনে আসেন সেচমন্ত্রী রাজীব ব্যানার্জি। সেখানে তাঁর দপ্তরের সচিব গৌতম চ্যাটার্জি ও যুগ্মসচিব দেবাশিস দাশগুপ্তর সঙ্গে এ বিষয়ে দীর্ঘক্ষণ আলোচনা করেন। আলোচনা শেষে তিনি লকগেট ভেঙে পড়ার কারণ খতিয়ে দেখতে ২ সদস্যের কমিটি গঠন করার সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা জানান।গঠন করা কমিটিতে রয়েছেন সচিব ও মুখ্য বাস্তুকার।

এপ্রসঙ্গে রাজীববাবু বলেন, “লকগেট ভাঙার পেছনে যদি কারও হাত থাকে তাহলে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ রেহাই পাবে না। কারণ মা মাটি মানুষের সরকার অন্যায় বরদাস্ত করেননা।”

তবে শুধু যথোপযুক্ত ব্যবস্থা না থাকায় লকগেট ভেঙেছে এই মত ছাড়াও কিন্তু, অন্য এক আশঙ্কার কথা উঠে আসছে। দুর্ঘটনার পেছনে বালি মাফিয়াদের হাত নেই তো তা নিয়ে উঠছে প্রশ্ন। তবে কেন এমন আশঙ্কা? মাফিয়াদের লাভ কোথায় ?
দীর্ঘদিন ধরেই দুর্গাপুরের শ্যামপুর, কাঁকসা সিলামপুর ও বুদবুদের বিস্তীর্ণ এলাকায় দামোদর নদের বক্ষ থেকে চোরাবালি কারবারের অভিযোগ উঠে এসেছে। বর্ষার পর বালি পেতে সমস্যা না হলেও নদীতে জলের প্রবাহ না থাকায় মরশুম ফুরোলেই দেখা দেয় সমস্যা।
সারাবছরই জলমগ্ন থাকে দুর্গাপুর ব্যারেজ ফলত লকগেট ভাঙলে প্রচণ্ড স্রোতের সঙ্গে ভেসে আসবে বালিও। ওই বালি দুর্গাপুর, কাঁকসা ও বুদবুদ এলাকার দামোদরের বক্ষে জমতে থাকলে অবৈধভাবে বালি তোলা শুরু হবে। ফলে অবৈধভাবে প্রচুর বালি তোলা শুরু করা যাবে।

আলোচনায় দুর্গাপুর ব্যারেজের সংস্কারের বিষয়টি উঠলে রাজীববাবু বলেন, “আমরা চাইছি গ্যানট্রি ক্রেন বসাতে। যাতে আপৎকালীন অবস্থাতে উপর থেকে ক্রেন দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে যেখানে লকগেট ভেঙে জল বেরোতে পারে সেখানে ফেলে দেওয়া যায়। তাছাড়া বিকল্প ব্যবস্থা করারও চেষ্টা করা হচ্ছে। এছাড়া হাইড্রোলজিক সিস্টেমও চালু করা হচ্ছে। এ বিষয়ে কেন্দ্রের কোনো সাহায্য না মেলায় বিশ্বব্যাঙ্কের কাছে ঋণ নিয়ে সেকাজ করা হচ্ছে। অবস্থার উন্নয়নে সবরকম চেষ্টা করা হচ্ছে।”

প্রসঙ্গত, দেশ বিদেশের জলাধারে এখন লকগেটের পরিবর্তে ব্যবহৃত হচ্ছে ফ্লোটিং গেট। এটা মিশ্র ধাতুর তৈরি। জলে নষ্ট হয় না। তবে লকগেটের বদলে ফ্লোটিং গেট এখনও বসানো যায়নি। ফলে অল্প পরিমাণে জল বেরোচ্ছে এখনও। জলাধারে জলের গভীরতা ১২ ফুট হলে তবেই নিয়ে আসা যাবে এই গেট। এমনটাই জানানো হয় আজকের আলোচনায়।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *