বাবার সুরক্ষার জেরে বুথ আগলালো প্রার্থীর ছেলে

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

তরুনা মণ্ডল

রাজনীতির ধার দিয়ে ঘেঁসেনি কোনদিন ছেলে, অথচ সেই কি না পঞ্চায়েত ভোটের দিন বাবার হয়ে আগলে রাখল  বুথ। বাবা প্রশান্ত কুমার রায়, বালির সিপিআই(এম) নেতা। এবার তিনি আবার দূর্গাপুর-অভয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত ১-এর সিপিআই(এম) প্রার্থী হিসেবেও দাঁড়ান। তাঁর ছেলে সৌমিত্র কুমার রায়ের এতে নৈতিক সমর্থন কিছুটা আছে ঠিকই, কিন্তু বাবার সাথে কোনদিনই সক্রিয় রাজনীতি করেননি। তবে পঞ্চায়েত ভোটের দিন যেভাবে সকলের সম্মুখে নেমে শাসক দলকে কড়া চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিলেন, তাতে অভয়নগরের অনেকেই বলেছেন, ‘এ ছেলের ভয় নেই, একেবারে বাপ কা বেটা’।

ছবি সৌজন্যে : ২৪ ঘন্টা
ছবি সৌজন্যে : ২৪ ঘন্টা

এদিন বুথরক্ষকের ভূমিকায়, তাও আবার প্র্যাকটিস ছাড়াই! কেমন ছিল এই অভূতপূর্ব অভিজ্ঞতা? জানতে চাইলে ফুটবল পাগল ছেলে জানায়, সকালবেলা ঘুম থেকে ওঠা মাত্র তার বাবা তাঁকে বলে পোলিং এজেন্ট হতে হবে। এর আগেও ২০০৩-এ তাঁর বাবা ওই কেন্দ্র থেকে দাঁড়িয়ে হেরে গিয়েছিলেন। তবে তিনি জানতেন এবারের লড়াইটা আরও কঠিন। তৃণমূল ছাড়াও কংগ্রেস-বিজেপি এমনকী নির্দল প্রার্থীও লড়ছে। ওই পাড়ায় অনেকেই পার্টি মেম্বার, তবে কেউ সাহস করে এগিয়ে আসেননি। তাই সেদিন তাঁর বাবার কমরেড হলেন তিনি নিজেই।

এদিকে প্রশান্ত কুমার রায় জানিয়েছেন, তিন স্তরেই তাঁর এজেন্ট ঠিক ছিল। কিন্তু শেয মুহূর্তে একজন অসুস্থ হয়ে পড়ায় গুল্লুকে (সৌমিত্রের ডাক নাম) এজেন্ট করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশান্তবাবু জানান, পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতি ভাল নয়। অনেকেই ভোটের ময়দান থেকে পিছু হটেছে। যারা নেমেছে, মানসিক প্রস্তুতি নিয়েই পা বাড়িয়েছে। হাতে কলমে ভোট করানোর অভিজ্ঞতা ছেলের না থাকলেও ও পুরোভাগেই পাশে ছিল। এবং মানুষ তাঁর বুথে শান্তিপূর্ণভাবেই ভোট দিয়েছে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

প্রসঙ্গত, দূর্গাপুর-অভয়নগর গ্রাম পঞ্চায়েত ১ -এর ২৫৮ শাখায় প্রশান্তবাবুর লড়াই ছিল মূলত তৃণমূলের বিরুদ্ধেই। এই গ্রাম পঞ্চায়েতে তৃণমূলের প্রার্থী দেবাশিষ ব্যানার্জি। শাসক দল জিতলে তিনিই সম্ভাব্য পঞ্চায়েত প্রধান। হেভিওয়েট প্রার্থীর সঙ্গে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পরও অবশ্য জেতার আশা ছাড়েননি দুঁদে সিপিআই(এম) নেতা প্রশান্ত কুমার রায়ও।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *