নাবালিকার বিয়ে রুখতে অভিনব উদ্যোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের

নাবালিকার বিয়ে রুখতে অভিনব উদ্যোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

ওয়েব ডেস্ক:১৮ বছরের নীচে মেয়েদের বিয়ে রুখতে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের অভিনব প্রকল্প কন্যাশ্রী। যা ইতিমধ্যেই বিশ্বসেরার তকমা পেয়েছে, বলাই যায় প্রকল্পের আওতায় কম বয়সে বিবাহের সংখ্যা বা রেশিও এখন অনেক কম। তাও অনেক সময় দেখা গেছে প্রত্যন্ত গ্রাম কিংবা অতি দারিদ্র্য হওয়ায় কম বয়সেই মেয়েদের বিয়ে দেওয়া হচ্ছে পরিবারের তরফে।

নাবালিকার বিয়ে রুখতে অভিনব উদ্যোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের
নাবালিকার বিয়ে রুখতে অভিনব উদ্যোগ স্কুল কর্তৃপক্ষের

নাহ আর না! প্রাপ্তবয়স্ক না হলে বিয়ে দেওয়া যাবে না, আর নাবালিকাদের বিয়ে আটকাতে এই অভিনব পদক্ষেপ নিল সুন্দরবন মথুরাপুর এক নম্বর ব্লকের কৃষ্ণ চন্দ্রপুর হাইস্কুল কর্তৃপক্ষ।

স্কুল কর্তৃপক্ষের নিয়মে ক্লাস এইট থেকে টুয়েলভে ছাত্রী ভর্তি নেওয়ার আগে অভিভাবকদের দিতে হচ্ছে মুচলেকা। যেখানে লেখা থাকতে হবে, প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগে তারা মেয়ের বিয়ে দিতে পারবেন না।আর এই মর্মে মুচলেকা জমা পড়লে তবেই ভর্তি নেওয়া হচ্ছে ছাত্রীকে। প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতির এই উদ্যোগে খুশি পড়ুয়ারাও।

সুন্দরবনের মথুরাপুরে বসবাস প্রায় একলাখেরও বেশি মানুষের। চাষাবাদ আর মৎস্যচাষই তাদের প্রধান পেশা। যার ফলে রয়েছে অর্থাভাব। শিক্ষার আলো সেখানে এখনও দিনের মতো পরিস্কার নয়। ফলত কম বয়সেই বিয়ে হয়ে যাচ্ছে অনেক নাবালিকার। তাদের কাছে এখন একমাত্র ভরসা কৃষ্ণচন্দ্রপুর হাইস্কুল।

এপ্রসঙ্গে প্রধান শিক্ষক চন্দন মাইতি জানান, স্কুলের পড়ুয়ার সংখ্যা প্রায় হাজার তিনেক। তাদের ভবিষ্যতের দিকে তাকিয়েই এই পরিকল্পনা।”

তিনি আরও বলেন, “ক্লাস এইট, নাইনে ওঠার পর থেকে মেয়েদের একাংশ স্কুলে আসছে না। যে কোনও কারণেই হোক বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তাদের শিক্ষা মাঝপথে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। কন্যাশ্রী , বেটি বাঁচাওয়ের মতো প্রকল্পের আওতায় থাকা সত্ত্বেও নাবালিকার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে। তা আটকাতে মুচলেকার ব্যবস্থা। ভর্তির সময় অভিভাবকদের ডেকে তাঁদের সঙ্গে কথা বলা হচ্ছে। আলোচনা করে অঙ্গীকারপত্রে সই নেওয়া হচ্ছে। অভিভাবকদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার জন্য ফোন নম্বর নেওয়া হচ্ছে। নিজেদের ইচ্ছায় অঙ্গীকারপত্রে সই করছেন অভিভাবকরা। তবে একদিনে অভিভাবকদের রাজি করানো যায়নি। দিনের পর দিন বাড়ি গিয়ে, স্কুলে মিটিং করে মুচলেকার প্রস্তাবে রাজি করানো হয়েছে।”

প্রধানশিক্ষকের ও স্কুল কর্তৃপক্ষের এই সিদ্ধান্তে খুশি ছাত্রীরা। এক ছাত্রীর কথায়, “দেশ এগোচ্ছে, বদলাচ্ছে সমাজ। পরিবর্তনই কাম্য। আর সেখানে দরকার শিক্ষা। তাই জেলার প্রতিটি স্কুলেই এই নিয়ম চালু হওয়া দরকার।” 

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *