অনুপম খেরের জন্য জাতীয় পুরস্কারে ব্রাত্য রীতা

অনুপম খেরের জন্য জাতীয় পুরস্কারে ব্রাত্য রীতা
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

ওয়েব ডেস্ক: অচিরেই চলে গেলেন টলিপাড়ার অন্যতম উজ্জ্বল নক্ষত্র রীতা কয়রাল। মূলত খল চরিত্রের জন্যই তাঁর অল্পসময়ের স্ক্রিন প্রেজেন্স মন কেড়েছিল বাঙালি দর্শকদের। নয়ের দশকে যখন অঞ্জন চৌধুরি, স্বপন সাহা, তরুণ মজুমদাররা মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের চালচিত্র রুপোলি পর্দায় ফুটিয়ে তুলছেন, সেইসময় আবির্ভাব রীতা কয়রালের। হিংসুটে কাকিমা বা রাগী বউদি আবার কখনও বা বদমেজাজি বউয়ের চরিত্রে রীতা কয়রালের সমসাময়িক অভিনেত্রীদের চেয়েও স্ক্রিন প্রেজেন্স ছিল অনেক বেশী জীবন্ত।

অনুপম খেরের জন্য জাতীয় পুরস্কারে ব্রাত্য রীতা
ছবি প্রতীকী

খল চরিত্রের জন্য সংঘমিত্রা বন্দ্যোপাধ্যায় ও রীতা কয়রালের কথাই প্রথমে মাথায় আসত পরিচালকদের। এ তো গেল দর্শকদের চোখে রীতা কয়রাল তবে সিমেমার পর্দার উল্টোদিকেও একটা জীবন থাকে, কখনো তা খুশীর হলেও কখনো তাতে থাকে বিষাদের ছায়া।

ঐ খল চরিত্রই সার , নবীন বয়সেও কখনও নায়িকার চরিত্র জোটেনি তাঁর। বরাবরই নেগেটিভ চরিত্র করতে করতে একটা সময় বোর হয়ে গিয়েছিলেন অভিনেত্রী। কিন্তু তিনি ভালোমতো জানতেন ইন্ডাস্ট্রিতে প্ল্যাটফর্ম টিকিয়ে রাখতে গেলে এ ছাড়া উপায়ও নেই।

আজ আপনাদের তেমনই কিছু চিত্র দেখাব, যা রুপোলি পর্দার কেউকেটাদের ষড়যন্ত্র বলতে পারেন….

অনুপম খেরের জন্য জাতীয় পুরস্কারে ব্রাত্য রীতা
ছবি প্রতীকী

২০০০ সালে তাঁর সুযোগ আসে ঋতুপর্ণ ঘোষের ছবিতে কাজ করার। তবে তা নেপথ্যে কিরন খের-এর কন্ঠ দেওয়ার জন্য। এসব কাজে কিন্তু খুব বেশি পারিশ্রমিক মেলে না আবার থেকেও যেতে হয় অন্তরালে তবে সেসব ভেবে কিন্তু কাজ ছাড়েননি, বরং একজন শিল্পী হিসেবে নিজের সেরাটা দিয়েছেন। ছবিটি জাতীয় পুরস্কারের জন্য বিবেচিত হয় তখনই হয় গোলমাল। বিচারকমণ্ডলীর মধ্যে ছিলেন পরিচালক গৌতম ঘোষ, রমেশ গান্ধী ও অপর্ণা সেন। কিরণের মুখে রীতার স্বর বুঝতে কিন্তু অসুবিধা হয়নি তাঁদের। সম্প্রতি একটি টিভি শোয়ে সেবিষয়ে প্রথম মুখ খোলেন রীতা।

ডাবিংয়ের জন্যও যে জাতীয় পুরস্কার পাওয়া যেতে পারে সেকথা জানতে পেরে গৌতম ঘোষের কাছে স্বীকার করেন রীতা যে, এই স্বর তাঁরই। ব্যস, মিডিয়ায় জানাজানি হতেই বেঁকে বসেন পরিচালক ঋতুপর্ণ। তিনি একথা অস্বীকার করেন। তখনই মুম্বই থেকে রীতার কাছে ফোন আসে ছবির অন্যতম প্রযোজক অনুপম খের-এর। ডাবিংয়ের জন্য আরও মোটা টাকার পারিশ্রমিক অফার করেন অনুপম। তবে একটাই শর্ত, ডাবিংয়ের কথা কাউকে বলা যাবে না। কিন্তু তা করতে অস্বীকার করায় অনুপম রীতাকে হুমকিও দেন বলে অভিযোগ। বলিউডে তো বটেই এমনকী টালিগঞ্জেও রীতার কাজ পাওয়া মুশকিল করে দেবেন বলে হুমকি দেন। কিন্তু সেদিন অন্যায়কে প্রশ্রয় না দেওয়ার পরিণামে আর যাই হোক জাতীয় পুরস্কার আর জোটেনি অভিনেত্রীর।

অনুপম খেরের জন্য জাতীয় পুরস্কারে ব্রাত্য রীতা
ছবি প্রতীকী

সিনেমা ছেড়ে শেষদিকে টেলিভিশন সিরিয়ালেও কাজ শুরু করছিলেন রীতা। বর্তমানের জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘রাখিবন্ধন’-এর অন্যতম প্রধান চরিত্রে ছিলেন তিনি। সেখানেও তাঁর অভিনয় ছিল ভীষণ জীবন্ত, লিভার ক্যানসারের কথা তো বোঝাই যায়নি সেখানে। এখানেই তো প্রমাণিত হয় যে কতটা দক্ষ অভিনেত্রী হলে মৃত্যু পর্যায়ে দাঁড়িয়েও একের পর এক চমক দিয়ে যান।

শুধু প্রতিভা থাকলেই যে পুরস্কার জোটে না তা আরোও একবার প্রমাণিত হল রীতা কয়রালের জীবন দিয়ে। তবে শেষাবধি যোগ্য সম্মান প্রাপ্তি না হওয়ার আক্ষেপ নিয়েই চিরঘুমে চলে গেলেন প্রতিভাবান এই অভিনেত্রী।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *