৬ টাকায় সবজি ভাত, খাস কোলকাতায় খাওয়াচ্ছেন দম্পতি

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

দেবাঞ্জন কর

প্রথমেই যদি প্রশ্ন করি, এই দুর্মূল্যের বাজারে ৬ টাকায় কি মেলে? বা আপনাকে যদি ৬ টাকা দিয়ে বাজারে পাঠানো হয় কি কিনবেন? স্বাভাবিক প্রশ্ন টা শুনে চমকে যাওয়া! কি হয় ৬ টাকায়? এক কাপ চা, একটা বিস্কুট। বা বেশী খিদে পেলে একটা কেক। চারটে কচুরি যেখানে সর্বনিম্ন ১২ টাকা, সেখানে তার অর্ধেক খরচে পেটপুড়ে লাঞ্চ!! এও সম্ভব??

কিছুদিন আগে রাজ্য সরকার-এর সাহায্যে বেনফিশ তাদের অন্নপূর্ণা প্রকল্পে ২১ টাকায় মাছ ভাত খাওয়াতে শুরু করেছে রাজ্যবাসীকে। সে কথা আমরা সকলেই জানি। কোলকাতার বিভিন্ন অঞ্চলে ভ্রাম্যমান গাড়ীর মাধ্যমে বিক্রী করা হয় ডাল, ভাত, তরকারি, মাছের ঝোলের প্ল্যাটার মাত্র ২১ টাকায়। তবে সে সব কে তাক লাগিয়ে এক স্থাপত্য দম্পতি মাত্র ৬ টাকায় অতিথি সেবায় ব্রত হয়ে সমাজ কল্যানে এক মহাযজ্ঞ শুরু করেছেন।

হাজরা বা যতীনদাশ পার্ক নিকটস্থ শিশুমঙ্গল হাসপাতালের উল্টোদিকে প্রতিদিন প্রায় ২০০ মানুষের খাবার যোগান দেন তারা। মাত্র ৬ টাকায় ভাত, ডাল, সবজি। স্বাদ ও ভালো আর পরিছন্নতা বজায় রাখা হয় সংরক্ষণ থেকে পরিবেশন সবেতেই। কিন্তু কিভাবে এত কমে দেওয়া যাচ্ছে এই জনতার মিল?

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেলো, এক প্লেট সবজি ভাতের তাদের তৈরি করতে ব্যয় হয় ১০ টাকা। নিজেরা তার উপর ৪ টাকা প্রতি প্লেটে ভর্তুকি দিয়ে ৬ টাকায় সেই খাবার তুলে দিচ্ছে সাধারণ মানুষ কে। কিন্তু কেন? উত্তরে জানা যায় নিছক ই সমাজ কল্যানের উদ্দেশ্যে এই আয়োজন তাদের। বাচ-বিচার ছাড়া আগে এলে আগে পাবেন ভিত্তিতে রোজ দুশো মানুষ কে অন্ন যোগান দিচ্ছে এরা। তবে যাদের সামর্থ্য আছে অন্য যায়গায় যাওয়ার তারা এই সুযোগ না নেওয়াই ভালো বলে মনে করছেন উদ্যোগতা দম্পতি কারণ তাতে যার সামর্থ্য নেই সে বঞ্চিত হবে।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

কে এই দম্পতি? হ্যাঁ পরিচয় আমরা জানলেও পাঠক কে জানাতে পারবো না কারণ তেমন ই ইচ্ছা সেই স্থাপত্য দম্পতির। তাদের মতে প্রচারের আলোয় আসার জন্য এই কাজ তারা করছেন না তাই পরিচয় গোপন রাখার শর্তে ই কথা বলেন তারা। তারা জানান, উদ্যোগ টা মাথায় আসার পর তারা দেখা করেন মেয়র পারিষদ দেবাশিষ কুমার (উদ্যান) এর সাথে। প্রকল্প শুনে বিস্মিত দেবাশিষ বাবু ব্যবস্থা করে দেন তাদের সেই ৬ টাকায় থালি বিক্রয়ের যায়গার। প্রথম দিন উপস্থিত ও ছিলেন তিনি। দেবাশিষ বাবু তাঁর ক্লাব ত্রিধারা তেও চালু করতে চলেছেন এই প্রকল্প খুবই শীঘ্রই।

আমাদের শহরেও বহু মানুষ দুবেলা দুমুঠো খেতে পায়না। সেই সব অসহায় মানুষের জন্য যেন কল্পতরু হয়ে এসেছে এই প্রকল্প। তবে এই মিল টা সর্বজনীন না হয়ে শুধুমাত্র সেই সব অসহায় মানুষের জন্য হলে হয়তো বেশী সংখ্যক এমন মানুষ উপকৃত হতো যাদের সত্যিই প্রয়োজন ছিলো এই সাক্ষাৎ “অন্নপূর্ণা”। তবুও দম্পতির এই চিন্তা ও প্রকল্প কে সাধুবাদ জানায় খাস খবর মিডিয়া। আপনাদের কে সালাম।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *