থানায় এনে সদ্যজাতকে স্তন্যপান করলেন পুলিশকর্মী

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

তরুনা মণ্ডল

চোখও ফোটেনি, গলার স্বর ততটাই ক্ষীণ৷ দুর্বল একরত্তি শরীর৷ যাঁরা জন্ম দিয়েছেন, তাঁরা পরিত্যাগ করেছেন ৷ মায়ের বুকের দুধটুকুও জোটেনি ওই একরত্তির কপালে ৷ কিন্তু অন্য এক মায়ের বুকের দুধে যেন নতুন করে জীবন ফিরে পেল একরত্তিটি।

ছবি সৌজন্যে: নিউজ 18 বাংলা
ছবি সৌজন্যে: নিউজ 18 বাংলা

ঘটনাটি ঘটেছে বেঙ্গালুরুর ইলেকট্রনিক সিটিতে৷ প্ল্যাস্টিকের ব্যাগের মধ্যে পড়েছিল ছোট্ট একটা শরীর৷ ঠাণ্ডায় কুঁকড়ে যাওয়া, রক্তে মাখা একরত্তি একটা শরীর। বুধবার সকালে ঘটনাটি প্রথম নজরে আসে সাব-ইন্সপেক্টর নাগেশের৷ কুঁইকুঁই করে কাঁদতে শুনেছিল সে শিশুটিকে৷ তারপর দেখা মাত্রই সঙ্গে সঙ্গে প্লাস্টিক থেকে তাকে বের করে হাসপাতালের দিকে ছোটেন নাগেশ৷ বিনা পারিশ্রমিকেই চিকিৎসা করতে রাজি হয়ে যান চিকিৎসকরাও৷ এভাবে প্রাথমিক চিকিৎসার পর শিশুটি একটু সুস্থ হলে তাকে থানায় নিয়ে আসেন ইন্সপেক্টর নাগেশ।

সে সময় ওই থানাতে উপস্থিত ছিলেন অর্চনা। বেঙ্গালুরু পুলিশের কনস্টেবল তিনি৷ মাতৃত্বকালীন ছুটির পর সেই দিনই কাজে যোগ দিয়েছেন তিনি৷ ছোট্ট শিশুটিকে দেখে নিজেকে আর সামলাতে পারেননি তিন মাসের শিশুর মা৷ বিবিসি-কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ওই অবস্থায় বাচ্চাটাকে দেখে তিনি নিজেকে সামলাতে পারেননি৷ তাঁর মনে হয়েছিল যেন তাঁর বাচ্চা কাঁদছে ৷ তাই তিনি শিশুটিকে দুধ খাওয়াতে শুরু করেন। এভাবেই মায়ের দুধের পুষ্টিগুণে একটু একটু করে বল পেতে থাকে একরত্তি, ধীরে ধীরে কান্নাও থামিয়ে দেয়।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

ওই শিশু এখন থেকে থাকবে সরকারেরই দেখভালে ৷ তাই কর্ণাটকের মুখ্যমন্ত্রীর নামে আদর করে থানায় সকলে তার নাম দেয় কুমারস্বামী ৷ এরপরে ‘শিশু মন্দির’ নামে অনাথাশ্রমের হাতে তুলে দেওয়া হয় ওই শিশুটিকে ৷

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

কিন্তু অর্চনার সেই অবদানের কথা এখন সকলের মুখে মুখে। আর তা হবে নাই বা কেন। রাজ্য সরকারের তরফ থেকে বিশেষভাবে ধন্যবাদ জানানো হয়েছে অর্চনাকে৷ এছাড়াও বেঙ্গালুরু পুলিশও ট্যুইট করে ধন্যবাদ জানিয়েছে তাঁকে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *