উপহারের লোভে রক্তদান আর হবেনা, নির্দেশ জারি স্বাস্থ্যভবনের

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

তরুনা মণ্ডল

রক্তদান শিবিরে রক্তদাতাদের বিভিন্ন উপহার দেওয়া হয়ে থাকে; তবে এইব্যাপারে এবার দাঁড়ি টানল স্বাস্থ্যভবন। কাজেই রক্তদান শিবিরে আর উপহার দেওয়া যাবে না রক্তদাতাদের। এই বিষয়কে কেন্দ্র সরকারি নির্দেশনামা জারি করা হল স্বাস্থ্য ভবন থেকে। রক্তসুরক্ষার দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা রাজ্য এইডস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ সমিতি’র জারি করা সেই অর্ডারে রাজ্যের সব ব্লাড ব্যাঙ্ককে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ‘উপহার নেই’ অঙ্গীকারে শিবির উদ্যোক্তাদের থেকে মুচলেকা নিয়ে তবেই ওই শিবিরে রক্ত সংগ্রহে যেতে পারবেন সংশ্লিষ্ট ব্লাড ব্যাঙ্কের কর্মীরা।

প্রসঙ্গক্রমে বলা যায়, কয়েক দিন আগেই মধ্য কলকাতার বুকে আয়োজিত হয়েছিল তিনটি বড়সড় রক্তদান শিবির।খাতায়-কলমে সব কটাই ‘স্বেচ্ছায় রক্তদান শিবির’ ছিল। অথচ রক্তদাতা টানতে উপহার হিসেবে একটিতে প্রেশার কুকার, অন্যটিতে মিক্সার-গ্রাইন্ডার ও তৃতীয়টিতে বড় দুগার্পুজোর ভিআইপি পাস দেওয়া হয়েছিল রক্তদাতাদের। প্রশ্ন করায় তিনিট শিবিরের উদ্যোক্তারাই জানিয়েছিলেন, শুধু নৈতিকতার কথা বলে লাভ নেই, উপহার দেওয়া তো বেআইনি নয়। এর কোন সরকারি অর্ডারও নেই।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

এই বার সেই অর্ডার জারি করল রাজ্য সরকার। সহজে রক্তদাতা জোগাড়ে আগ্রহী উদ্যোক্তাদের চুপ করানোর উদ্দেশ্যে, সব সরকারি ও বেসরকারি ব্লাড ব্যাঙ্ককে রীতিমতো নির্দেশনামা পাঠিয়ে জানিয়ে দেওয়া হল, রক্তদানের ক্ষেত্রে উপহার দেওয়া নিষিদ্ধ। ২৫ মে রাজ্যের যুগ্ম স্বাস্থ্য অধিকর্তা (রক্তসুরক্ষা) স্বাক্ষরিত সেই অর্ডারটি ইতিমধ্যে পৌঁছেও গিয়েছে সব ব্লাড ব্যাঙ্কের ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের কাছে। ন্যাকো এবং জাতীয় রক্ত সঞ্চালন পর্ষদের নিয়মাবলি উদ্ধৃত করে নির্দেশনামায় বলা হয়েছে, রক্তদান শিবিরে রক্তদানের বিনিময়ে দাতাকে যে টাকাপয়সা কিংবা অন্য কোনও ধরনের উপহার (স্মারক নয়) দেওয়া হচ্ছে না, তা নিশ্চিত করতে হবে রক্ত সংগ্রহকারী ব্লাড ব্যাঙ্ককেই। এক পদস্থ স্বাস্থ্যকর্তার কথায়, মিডিয়া-সহ নানা সূত্র মারফত ইদানীং খবর মিলছিল যে, দেদার উপহার বিতরণ করা হচ্ছে শিবিরগুলোয়। এতে স্বেচ্ছায় রক্তদানের মহিমা ক্ষুণ্ণ হচ্ছিল, সন্দেহ নেই। তাই এই অডার্র করা হল।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

স্বাস্থ্য দপ্তরের এই অর্ডারকে স্বাগত জানিয়েছেন রক্তদান আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত কর্মী-উদ্যোক্তারা যাঁরা ‘রক্তের মান বজায় থাকছে না’ দাবি করে দীর্ঘ দিন ধরে উপহারের বিরোধিতা করে আসছিলেন। চিঠি পাঠানো হয় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও। রক্তদান আন্দোলনের কর্মীদের যুক্তি, উপহারের লোভে অনেকেই রক্ত দিতে আসেন তাঁর শারীরিক অবস্থার কথা না ভেবে। অনেকে আবার ভালো উপহার পাবেন বলে দু’বার রক্তদানের মধ্যে ন্যূনতম যে তিন মাসের ব্যবধান থাকা জরুরি, তাও ধর্তব্যের মধ্যে আনেন না। অনেকে তাঁদের রোগ-ব্যাধির কথাও লুকিয়ে রাখেন। আখেরে এতে সংগৃহীত রক্তের মান খারাপ হয় খারাপ। কাজেই আশা করা যায়, রক্তদাতাদের উপহার নিষিদ্ধ করার এই সরকারি উদ্যোগ উপকৃত হবে রোগীকুলই।

এব্যাপারে সপ্তাহ দেড়েক আগেই মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি লিখে পদক্ষেপ নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিলেন ‘কফিহাউস সোশ্যাল সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনে’র সম্পাদক অচিন্ত্যকুমার লাহা। শুক্রবার এব্যাপারে তিনি জানান, উপহারের যে রেওয়াজ চলছে, তাতে রক্তদান শিবির আদতে রক্তবিক্রয় কেন্দ্রে পর্যবসিত হয়েছে। অথচ এ নিয়ে তেমন নির্দেশনামা ছিল না। সে জন্যই মুখ্যমন্ত্রীকে হস্তক্ষেপের অনুরোধ করেছিলেন। এ বার নিশ্চয়ই রক্তদান আন্দোলন ফের তার পুরোনো গতি ফিরে পাবে বলে তাঁর মনে হচ্ছে।

‘ওয়েস্টবেঙ্গল ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স ফোরামে’র সাধারণ সম্পাদক অপূর্ব ঘোষ বিষয়টিকে স্বাগত জানিয়েছেন। স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠনগুলি নিয়ে গঠিত বর্ধমান জেলা সমন্বয় সমিতির সম্পাদিকা তন্বিমা ধর জানান, গত দু’বছর তাঁদের অনেক লড়াইয়ের সাফল্য এই সরকারি নির্দেশনামা। ‘ভলান্টারি ব্লাড ডোনার্স অফ ওয়েস্টবেঙ্গলে’র সহকারী সম্পাদক, কুলটির বাসিন্দা দেবাশিস চক্রবর্তীর কথায়, রক্ত কোনও উপহারের বিনিময়ে দেওয়া যায় না। সরকারি এই নির্দেশে তা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *