স্বাস্থ্য দফতরে চলছে স্বৈরাচার, অভিযোগ সরকারী কর্মীদের

স্বাস্থ্য দফতরে চলছে স্বৈরাচার, অভিযোগ সরকারী কর্মীদের
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

ওয়েব ডেস্ক: চলতি বছরের ৩০শে নভেম্বর ৬৮ জন কর্মীর বদলির জন্য এক নির্দেশ জারি করে স্বাস্থ্য দফতর৷ তবে শুধু ৬৮ জন নয়, ২০১ জন ব্যক্তির নামের তালিকা ইতিমধ্যেই তৈরি হয়েছে স্বাস্থ্য দফতরের অধীনে। খুব শীঘ্রই তাদের হাতে পৌঁছে যাবে বদলির নোটিশ।এমনটাই জানানো হয়েছে সরকারী তরফে।

তবে বিষয়টি মানতে নারাজ কর্মীরা।বদলির এমন কোনো নীতি নেই এমনই অভিযোগ উঠল রাজ্য সরকারের অধীনে থাকা স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে৷ শুধু তাই নয় স্বাস্থ্য দফতরের বিরুদ্ধে স্বৈরাচার এবং প্রহসনের অভিযোগও উঠল। অভিযোগ করলেন খোদ সরকারি ডাক্তাররাই৷

স্বাস্থ্য দফতরে চলছে স্বৈরাচার, অভিযোগ সরকারী কর্মীদের
স্বাস্থ্য ভবন

স্বাস্থ্য দফতরের এই বদলিকে স্বেচ্ছাচার আখ্যা দিয়ে সোমবার থেকে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা বিক্ষোভে বসছেন। বদলি সংক্রান্ত নির্দেশের বিরুদ্ধে আন্দোলনরত স্বাস্থ্য দফতরের এক কর্মীর মৃত্যুর জেরে ক্ষুব্ধ কর্মীরা বলেন এই ঘটনার শেষ দেখতে চান তারা।

এবিষয়ে পশ্চিমবঙ্গের সরকারি ডাক্তারদের সংগঠন সার্ভিস ডক্টরস ফোরামের সাধারণ সম্পাদক, ডাক্তার সজল বিশ্বাসের কথায়, ‘‘অবসরের সময় হয়ে এলে কোনও কর্মীকে আর বদলি করা যায় না৷ যে ৬৭ জনের বদলির নির্দেশ জারি হয়েছে, সেখানে অনেকের অবসরের সময় চলে এসেছে৷ এটা সরকারের স্বৈরাচারী পদক্ষেপ৷ স্বাস্থ্য দফতরের এই নির্দেশ প্রহসন৷ এটা স্বাস্থ্য দফতরের সুস্বাস্থ্যের লক্ষণই নয়৷’’

রাজ্য সরকারি কর্মচারী ফেডারেশনের সম্পাদক রাজীব বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে স্বাস্থ্য দফতরের কর্মীরা বিক্ষোভ দেখান।আন্দোলনরত অবস্থায় অসুস্থ হয়ে পড়েন কাজল বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কিন্তু, হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার আগেই স্বাস্থ্য দফতরের ৫০ বছর বয়সি এই কর্মীর মৃত্যু ঘটায় কর্মীদের মধ্যে ক্ষোভ আরও বেড়ে যায়৷ 

এদিন বিক্ষোভকারীরা বলেন, স্বাস্থ্যসচিব অনিল ভার্মা একজন স্বেচ্ছাচারী। সংঙ্কীর্ণ স্বার্থে নজর রেখে নিয়মনীতি না মেনেই এই বদলির সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তিনি।অবিলম্বে স্বাস্থ্যসচিব অনিল ভার্মাকে পদত্যাগ করতে হবে এবং বদলির নির্দেশ ফিরিয়ে নিতে হবে।

রাজীববাবুর অভিযোগ, অনিল ভার্মার বিরুদ্ধে বহু অভিযোগ রয়েছে সেবিষয়ে তদন্তও চলছে। তরুণ থেকে বর্ষীয়ান সকল কর্মীকেই কার্যত অপমান করে চলেছেন তিনি। শুধু তাই নয় বেশিরভাগ জায়গায় অতিরিক্ত কর্মী পাঠানো হচ্ছে বলেও অভিযোগ জানান তিনি।

সুপার স্পেশালিটি হাসপাতাল তৈরির জন্য বিরাট অঙ্কের অর্থ শীঘ্রই আসতে চলেছে স্বাস্থ্য দফতরে। রাজীববাবুর দাবি, আসলে এই বিরাট অঙ্কের অর্থ বরাদ্দের পিছনে রয়েছে সর্ষের মধ্যে ভুত। এই অর্থ আদৌ যথাযথ প্রক্রিয়ায় খরচ করা হবে না বলেই সংশয় প্রকাশ করেন তিনি।

তবে মুখ্যমন্ত্রীর উদ্যোগে যে তারা সন্তুষ্ট সে কথাও জানান। তারা দাবি জানান যাতে অনিল ভার্মার স্বেচ্ছাচারিতায় হস্তক্ষেপ করেন মুখ্যমন্ত্রী।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *