দায়িত্ব কমলো শোভনের, পদ খোয়ালেন রাজীব ব্যানার্জী সহ একাধিক মন্ত্রী।

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

নিজস্ব সংবাদদাতা

ইঙ্গিত আগেই ছিলো, কার্য্যকর করা হলো পঞ্চায়ত নির্বাচনের পর। বড়সড় রদবদল বাংলার মন্ত্রী সভায়। নিজের দপ্তর খুইয়ে অন্য দপ্তর পেয়েছেন মমতার ক্যাবিনেটের বেশ কিছু হেভিওয়েট মন্ত্রী। যদিও সরকারী স্তরে এটা ‘রুটিন পরিবর্তন’ বলে অবহিত করা হয়েছে, তবে কাজে না খুশি ‘দিদি’ নিজেই এই রদবদল করেছেন বলেই খবর তৃণমূলের একাংশের।

রদবদল শুরু হয়েছিলো মঙ্গলবার থেকে। সেদিন পদ খুইয়েছিলেন তিন মন্ত্রী, পরিবর্তন হয়েছিলো একাধিক দপ্তরের। তার সাথে বুধবার যোগ হলো আরো একাধিক নাম। সেই তালিকায় প্রথমেই আলোচ্য দমকল মন্ত্রী তথা কোলকাতার মহানাগরিক শোভন চট্টোপাধ্যায়ের নাম।

আবার ডানা ছাঁটা হল কারও৷ উল্লেখযোগ্য ভাবে, দপ্তর কমিয়ে সতর্কবার্তা দেওয়া হল বিতর্কের মধ্যে থাকা দমকল ও পরিবেশ মন্ত্রী তথা মেয়র শোভন চট্টোপাধ্যায়কে৷ তাঁর কাছ থেকে নিয়ে নেওয়া হলো পরিবেশ দপ্তর এর ভার। অন্যদিকে নিজের পারফর্মেন্সে দলীয় ও প্রশাসনিক স্তরে মুখ্যমন্ত্রী কে খুশী রেখে পরিবেশ দপ্তরের বাড়তি দায়িত্ব পেলেন শুভেন্দু অধিকারী।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

অন্যদিকে তৃণমূলের অন্দরে চর্চিত গুড বয়, ও এলাকায় কাছের মানুষ বলে পরিচিত রাজীব ব্যানার্জী ও হারান তাঁর অধীনে থাকা সেচ দপ্তর। গত বার সেচের জন্য বরাদ্ধ অর্থ সময় মতো ঠিক খাতে খরচ করে বাহবা কুড়িয়েছিলেন রাজীব ব্যানার্জী। তবে এখন সেচ দপ্তর থেকে সরিয়ে তাঁর উপরে দেওয়া হল অনগ্রসর শ্রেণিকল্যাণ দপ্তরের দায়িত্ব৷ এই দপ্তর ছিলো চূড়ামণি মাহাতোর হাতে৷ অন্যদিকে সেচ দপ্তরের দায়িত্ব তুলে দেওয়া দল সৌমেন মহাপাত্রকে৷ আবার সৌমেন মহাপাত্রের হাতে থাকা জলসম্পদ দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হল পঞ্চায়েত মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে৷ জনস্বাস্থ্য কারিগরি দপ্তরের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মলয় ঘটকে৷ গতকাল আদিবাসী উন্নয়ন দপ্তরের দায়িত্ব থেকেও জেমস কুজুরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল৷ সেই দপ্তরটি নিজের হাতেই রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ কেবল মন্ত্রীদেরই কপ্তর বদল হল না৷ পাশাপাশি, রদবদল ঘটানো হল জেলাশাসক ও সচিব পর্যায়েও৷ ৮ জেলায় জেলাশাসক পদে পরিবর্তন করা হয়। বদলি করা হল ৫ সচিব পর্যায়ের আমলাদের।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

পঞ্চায়ত নির্বাচনে আগাগোড়াই ভালো ফল করেছে তৃণমূল কংগ্রেস। সব জেলা পরিষদ দখলে রাখার পর আগামী নির্বাচন কে পাখির চোখ করে সব দপ্তর ঢেলে সাজাতে চাইছেন মুখ্যমন্ত্রী। তবে যে আদিবাসী দের ভোট ব্যাঙ্ক তৃণমূলের একটা বড় কনফিডেন্সের যায়গা ছিলো, সেই ভোট ব্যাঙ্কে ক্ষাণিক ধস আনতে সক্ষম বিজেপি। পুরুলিয়া, বাঁকুড়া, জঙ্গলমহল মুখ ফিরিয়েছে শাসকের থেকে। তৃণমূলের অন্তর্তদন্তে জানা গেছে মুখ্যমন্ত্রীর প্রতি আস্থা থাকলেও স্থানীয় নেতাদের প্রতি বিরূপ হয়েই তৃণমূল কে চাইছে না আদিবাসী মহল। তাই ড্যামেজ কন্ট্রোল করতে তাদের উন্নয়নের দপ্তর নিজের হাতে রাখলেন মুখ্যমন্ত্রী? প্রশ্ন ঘুড়ছে রাজনৈতিক মহলে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *