দুঃসাহসীকতার নজির গড়তে গিয়ে মৃত চীনা যুবক

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

সুরজিৎ খাঁ: পৃথিবীর বিভিন্ন দেশেই দু:সাহসীমূলক বেশ কিছু কাজকর্মের প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয় আর তারই পাশাপাশি সেগুলির ভিডিও প্রচারও সচরাচর চোখে পড়ে। যেমন লক্ষ লক্ষ লোকের ‘জ্যান্ত মাছ খাওয়া’, ‘কাঁচা ডিম গিলে ফেলা’, ‘নগ্ন নৃত্য’ বা ‘আকাশ-ছোঁয়া উঁচু ভবনে ঝুলে থাকা’র মতো দু:সাহসিক কাজের ভিডিও প্রচার করে চলছে বিপুল পরিমাণে অর্থ আয়। সোশ্যাল মিডিয়া-র হাত ধরেই যে সেই কাজ আরো সহজ হয়েছে তা বলাই বাহুল্য।

আর প্রশংসা বা খ্যাতি কিংবা আয়ের পরিমাণ বৃদ্ধির লোভই প্রাণ কাড়ল চীনা যুবকের। কোনো রকম নিরাপত্তা ছাড়াই চীনের চাংশা শহরে ৬২ তলার একটি ভবনে উঠেছিল উ ইয়ংনিং নামে এক স্টান্ডম্যান। পরিকল্পনা ছিল, সেই ভবনের কোন একটি অংশ ধরে ঝুলে থাকা অবস্থায় ভিডিও করে সেই ভিডিওটি সে ইন্টারনেটে ছাড়বে। যদিও এটাই তাঁর প্রথম না, এমন কাজ সে আগেও করেছে। তবে ভাগ্য বোধহয় চিরসহায় হলো না তাঁর। পড়তে হলো মৃত্যুর কবলে।

দুঃসাহসীকতার নজির গড়তে গিয়ে মৃত চীনা যুবক
ছবি প্রতীকী

সমীক্ষা বলছে, চীনের পাশাপাশি রাশিয়াতেও এধরণের ভিডিও করতে গিয়ে কয়েক জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধুমাত্র রাশিয়া বা চীনই নয়, পৃথিবীর নানান দেশে প্রতিনিয়ত ঘটে চলেছে এরকম দুর্ঘটনা।

তবে বলা বাহুল্য ,চীনের ক্ষেত্রে ব্যাপারটা অন্যরকম। কারণ এসব লাইভ স্ট্রিম বা ভিডিও যারা করে তারা সরাসরি অর্থ আয় করে তাদের ভক্তদের কাছ থেকে।

তবে এসব প্ল্যাটফর্ম আর তাদের দর্শকরাই পরোক্ষভাবে দায়ী এমনটাই মনে করছেন বিভিন্ন মহলের মানুষেরা।

চীনের উ ইয়ংনিং এর ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বেজিং-এ একটি সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে ৫০০টিরও বেশি ছোট ভিডিও এবং ‘লাইভ স্ট্রিম হুওশান নামে একটি ওয়েবসাইটে ছেড়েছিল সে, যার মাধ্যমে সে আয় করে প্রায় ৮৩ হাজার মার্কিন ডলার। হুওশানে তার ‘ফ্যান’ সংখ্যা ১০ লাখেরও অধিক।

ওয়েইবো নামেএকটি মাইক্রোব্লগিং সাইটে এক ব্যাক্তি বলেন,”ব্যাপারটা হলো – যে লোক নিজের গায়ে ছুরি মারতে চায়, তাকে আপনি একটা ছুরি কিনে দেয়াটা যে রকম, এসব বিপজ্জনক ভিডিওকারীদের কাজ দেখা বা এর প্রশংসা করাও একই রকম ব্যাপার।
এছাড়াও বলেন ,”এগুলো দেখবেন না, লাইক দেবেন না, বা ফলো করবেন না – কারো জীবন বাঁচানোর জন্য এতটুকু তো আমরা করতেই পারি”।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *