পোস্ট এডিট : ত্রিপুরায় লেনিন মুর্তি ভাঙা ও তৎসহ বহু প্রতিক্রিয়া!

পোস্ট এডিট : ত্রিপুরায় লেনিন মুর্তি ভাঙা ও তৎসহ বহু প্রতিক্রিয়া!
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

দেবাঞ্জন কর : সম্প্রতি ত্রিপুরায় পাঁচ বারের বাম সরকারের পতন ঘটিয়ে একক ভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়ে সরকার গড়তে চলেছে বিজেপি। বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মানিক সরকারের স্বচ্ছ ভাবমুর্তি অবশ্যই সারা দেশ এর কাছে উজ্জ্বল উদাহরণ কিন্তু জনগনের রায়ে গদি হারায় বামফ্রন্ট। দীর্ঘদীন ক্ষমতার শীর্ষে থাকা দল একাধিক ইস্যু ও কার্য্যকলাপে জন বিচ্ছিন্ন হয়ে উঠেছিলো আমাদের রাজ্যের মতোই। অন্যদিকে সেই সুযোগ নিয়ে মাটি কামড়ে পড়ে থাকা বিজেপি সুফল তুলতে সার্থক। জয়ের উল্লাসে যেভাবে লেনিন এর মূর্তি ভাঙা হলো তা নিন্দনীয়। প্রসঙ্গত এটা লেনিন না হয়ে গান্ধী মূর্তি হলেও এক ই ভাবে নিন্দা করতাম। মূর্তি ভাঙা কে কেন্দ্র করে একাধিক প্রতিক্রিয়ায় বাজার গরম। আসরে নেমেছেন এ রাজ্যের ফেসবুকীয় বাম বিপ্লবীরা। বিজেপির একটা বড় অংশের দাবী লেনিন একজন বিদেশী নেতা। খুব হাস্যকর একটা কথা। মতাদর্শ আবার দেশী বিদেশী হয় নাকি। আজ আমেরিকায় বিবেকানন্দের মুর্তি ভাঙা হলে আপনারা সমর্থন করবেন তো, আমেরিকার কাছে তো বিবেকানন্দ ও বিদেশী। আবার কেউ বলছে মানুষের দীর্ঘ বঞ্চনার ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। কিন্তু মানুষ তে দলে দলে হীরক রাজার মূর্তি ভাঙার মতো করে ভাঙেনি। কিছু দলীয় কর্মী কে দেখা গেলো এই কাজে উদ্যত হতে। সংসদীয় রাজনীতিতে এই ধরণের প্রতিহিংসা পরায়ন মনোভাব কাম্য নয়। রাজনীতি তে চিরস্থায়ী কেউ নয় আপনারা ও নন। পাটকেল সহ্য করার ক্ষমতা বুঝে তবেই ঢিল মাড়ুন।

পোস্ট এডিট : ত্রিপুরায় লেনিন মুর্তি ভাঙা ও তৎসহ বহু প্রতিক্রিয়া!
পোস্ট এডিট : ত্রিপুরায় লেনিন মুর্তি ভাঙা ও তৎসহ বহু প্রতিক্রিয়া!

লেনিন এর মূর্তি ভাঙা নিয়ে বামেরা আসর গরম করতে চাইবে সেটা স্বাভাবিক। যদিও ব্যাপার টা মাইনাস ৫ ডিগ্রী সেন্টিগ্রেডে মোমবাতি নিয়ে তাপ নেওয়ার চেষ্টার মতো। ঘটনা নিয়ে মুখ খুলেছেন মমতা ব্যানার্জীও। স্বাভাবিক এ হেন অন্যায় মেনে নেওয়ার মতো মানুষ উনি তো নন। আর প্রসঙ্গ যেখানে বিজেপি-র বিরুদ্ধে আক্রমণ শানানো সেখানে এরম সেন্টিমেন্টাল সুযোগ ছাড়া যায় নাকি। যদিও যাদবপুরে লেনিন মূর্তি ভাঙার সময় উনি বোধায় ব্যস্ত থাকায় প্রতিক্রিয়া দিতে ভুলে গেছিলেন না হলে অবশ্যই বলতেন “বাচ্ছা ছেলেরা একটু দুষ্টুমি করে ফেলেছে”।

অবশেষে আসি বামেদের কথায়। নিমতালায় কে শ্যামাপ্রসাদের মূর্তি তে কালি লাগালো সে প্রসঙ্গে না ঢুকেও বলছি প্রতিহিংসার রাজনীতি মার্ক্সীয় আদর্শের পরিপন্থি নয়। আপনারা ক্রমশ জনসংযোগ হারিয়েছেন তাই ভালো কথা টাও লোকে আপনাদের মুখে শুনতে প্রস্তুত নয়। বিরোধী রাজনীতি মানে শুধুমাত্র সরকারের ভুলের অপেক্ষায় বসে থাকা নয়। আপনাদের কর্মীরা জানে না বিরোধী রাজনীতি ঠিক কি! ৬০-এর দশক এর কর্মীরা আজ সংখ্যালঘু। ক্ষমতায় থাকা কালীন আপনারা আপনাদের কর্মীদের ভিয়েতনাম, কিউবা, চিনের গল্প শুনিয়েছিলেন। কিভাবে বিরোধী নিধন করতে হয় শিখিয়েছেন কিন্তু বিরোধী রাজনীতি করতে শেখাননি। আপনারা ক্ষমতার দম্ভে ভাবতে পারেননি আপনাদের ও বিধানসভার বাঁদিনে বসতে হতে পারে। ক্ষমতায় না থাকা কালীন পুলিশ ও প্রসাশনের অসহযোগীতায় ও কাজ করা যায় সেটা মমতা ব্যানার্জীর থেকে আপনাদের শেখা উচিৎ ছিলো। উনি কিন্তু আপনাদের থেকে শেখা চালেই আপনাদের কিস্তিমাত করেছেন, এবং বর্তমানেও ক্রমশ আপনাদের মুছে দিচ্ছেন। আর আপনার পক্ক কেশে থিওরি আওয়ে যাচ্ছেন। “একদা সিপিএম নামক একটি দল ছিলো” পরিস্থিতি যদি না চান, এখনো সময় আছে মানুষের জন্য রাজনীতি করার। বিরোধীদের কাজ শুধু বিরোধীতা নয়, গঠনমূলক রাজনীতি তে অংশ নেওয়াও। লেনিন মূর্তি ভাঙা অবশ্যই নিন্দনীয়, তবে সে বিষয় মিছিল করার আগে এ রাজ্যের মানুষ আপনাদের থেকে কি পাবে সেটাও মাথায় রাখুন। যারা মিছিলে পা মেলালেন তাদের অধিকাংশ লেনিন কে, তার অবদান কি জানেন না, তথা লেনিন এর পরিবর্তে লেলিন বলা পার্টিকর্মী। অনুগ্রহ করে আর সার্কাস দেখাবেন না, মানুষ এসবে ক্লান্ত।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *