রসগোল্লা কার? রায় বললো বাংলার।

রসগোল্লা কার? রায় বললো বাংলার।
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

ওয়েব ডেস্ক: শেষ পাতে একটু মিষ্টিমুখ না করা গেলে পাত টা একপ্রকার অসম্পূর্ণ রয়ে যায়। সে অনুষ্ঠান বাড়ি হোক কিংবা ঘরের খাবার থালা। বাঙালিদের রসনাতৃপ্তির সেরা মিষ্টি, বাংলার ঐতিহ্য রসগোল্লা। যার নামটাই মুখে একটা চওড়া হাসি নিয়ে আসতে পারে। সেই রসগোল্লা যে বাঙালিদের সৃষ্টি, সে কথা সর্বজনবিদিত। তার প্রাণপ্রতিষ্ঠাও কলকাতাতেই , তাও ঐতিহাসিকভাবে প্রতিষ্ঠিত। তবুও কে বানিয়েছে টই টম্বুর রসে ভরা রসগোল্লা, এই প্রশ্নে বছর দশেক আগে গোল বেধেছিল ওড়িশার সঙ্গে রাজ্যের।

রসগোল্লা কার? রায় বললো বাংলার।
রসগোল্লা

চলতি বছরের ২৭শে আগস্ট ওড়িশার রাজ্য বিধানসভায় দাবি ওঠে রসগোল্লা ওড়িশার। দাবি মানতে নারাজ বঙ্গবাসীও, সাফ কথায় রাজ্য সরকার জানিয়ে দেন রসগোল্লা পশ্চিমবঙ্গের।

অবশেষে নানান জল্পনা কল্পনার পর গোল মিটল জিআই কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে। উভয় রাজ্যের পেশ করা যুক্তি খতিয়ে দেখে অবশেষে জিআই কর্তৃপক্ষ জানিয়ে দেয়, রসগোল্লা বাংলার নিজস্ব। তা বাংলাতেই তৈরী হয়েছে।

যদিও ওড়িশা যে রসগোল্লার মালিকানা দাবি করে, তার সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের রসগোল্লার অনেক অমিল রয়েছে। ওড়িশা সরকারের দাবি করা রসগোল্লা আসলে সুজি, ক্ষীর ও গুড় দিয়ে তৈরি। প্রসঙ্গত,এখন পশ্চিমবঙ্গে যে রকম দুধে সাদা রসগোল্লা পাওয়া যায়, ওই যুগে কিন্তু তেমনটি ছিল না। তখন চিনিও এত সাদা ছিল না। আজকের মতো আধুনিক প্রযুক্তিতে মিল-কারখানায় চিনি উৎপাদন হতো না। সে সময় উৎপাদিত হতো প্রচুর গুড়। আখের রস জ্বাল দিয়ে তৈরি হতো এই গুড়। ওই গুড় থেকে হতো এই চিনি। গুড়কে ‘পাতা’ নামক একধরনের শেওলা দিয়ে ঢেকে রাখা হতো। গুড়ে যেসব লালচে পদার্থ থাকত, সেগুলো শেওলার ভেতরকার ব্যাকটেরিয়া খেয়ে নিলে বেরিয়ে আসত চিনির দানা। রসগোল্লাতে সেই চিনিই ব্যবহার করা হত, ফলত রসগোল্লা লালচে হলেও তা বঙ্গসৃষ্ট। অন্যদিকে বঙ্গে তৈরী ছানা ও চিনির রস বাংলার রসগোল্লাকে বিশ্বের দরবারে পৌঁছে দিয়েছে।

রসগোল্লা কার? রায় বললো বাংলার।
মমতার ট্যুইট

এতদিনের লড়াই শেষে জয়ের হাসি ফুটল বাঙালির মুখে। এদিকে রসগোল্লার জিআই প্রাপ্তিতে খুশি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও। একটি টুইটে তিনি বলেন, “আমাদের কাছে মিষ্টি খবর। রসগোল্লার জিআই প্রাপ্তিতে আমরা খুশি এবং গর্বিত।”

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *