নজরদারি বাড়াতে এবার ভাগাড়ে বসছে সিসিটিভি

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

তরুনা মণ্ডল : ভাগাড় কান্ড নিয়ে এত বিতর্ক এড়াতে এবং ভাগাড়ে নজরদারি বাড়ানোর জন্য ভাগাড়েই এবার সিসিটিভি বসানোর সিদ্ধান্ত নিল রাজপুর-সোনারপুর পুরসভা৷ শুধু সিসিটিভি নয়, সেই সঙ্গে সেখানে চালু হতে চলেছে মৃত পশু দাহ করার ব্যবস্থা পর্যন্ত। এব্যাপারে রাজ্য সরকারের পুরদপ্তর প্রায় আড়াই কোটি টাকা বরাদ্দ করেছে বলে জানা গিয়েছে৷ কলকাতা ও শহরতলি জুড়ে চলা ভাগাড় থেকে মাংস নিয়ে গিয়ে বিক্রির বিতর্কের মধ্যে রাজ্যে এই প্রথম কোনও পুরসভা এ ধরনের উদ্যোগ নিতে চলেছে বলে দাবি করেছেন সেখানকার পুর কর্তারা৷ চেয়ারম্যান পল্লবকুমার দাস জানিয়েছেন, পুরসভার ডাম্পিং গ্রাউন্ড ও ভাগাড়ে সিসিটিভি বসানোর জন্য অপটিক্যাল ফাইবার কেবিল লাইন পাতার কাজ ইতিমধ্যেই শুরু হয়ে গিয়েছে৷ তাঁরা আশা করছেন চলতি সপ্তাহেই সিসিটিভি চালু করা যাবে৷

নজরদারি বাড়াতে এবার ভাগাড়ে বসছে সিসিটিভি
পচনশীল মাংস

সূত্রের খবর, এই অঞ্চলের ৩৫টি ওয়ার্ডের জঞ্জাল প্রতিদিন জমা হয় বৈকন্ঠপুরের ডাম্পিং গ্রাউন্ডে৷ এর জন্য দু’শোর বেশি ভ্যান ও সাফাইকর্মী আছেন, এছাড়াও পাড়ায় পাড়ায় ঘুরে ঘুরে যাঁরা বর্জ্য সংগ্রহ করেন এবং তাঁরাও সেসব বর্জ্য ওই ডাম্পিং গ্রাউন্ডে ফেলেন৷ সংগৃহীত ওই বর্জ্যের দৈনিক পরিমাণ গড়ে ১৩৫ মেট্রিক টন৷ সেগুলির মধ্যে থেকে আবার পচনশীল ও অপচনশীল বর্জ্য বাছাই করে আলাদা করে পুনব্যর্বহারের ব্যবস্থাও করা হয়৷ এর পাশপাশি চালু রয়েছে পুরসভায় মৃত পশু বহন করার ব্যবস্থা৷ পুর এলাকায় কুকুর, বিড়াল, গোরু, ছাগল সহ কোনও গৃহপালিত পশু বা রাস্তার পশু মরে গেলে পুরকর্মীরাই সেগুলি নিয়ে ডাম্পিং গ্রাউন্ডের এক পাশে ফেলেন৷ পুরসভার টেন্ডার পাওয়া লোকেরাই মৃত পশুর গা থেকে চামড়া খুলে নিয়ে চলে যায়৷ বাকিটা চিল, শকুন, কুকুরের খাবার৷

ডাম্পিং গ্রাউন্ডে দুই শিফটে চারজন নিরাপত্তা রক্ষী থাকলেও চামড়া ছাড়ানোর পর পশুর দেহ থেকে আর কেউ মাংস কেটে নিয়ে যাচ্ছে কি না, তা নিশ্চিত করতে সবসময় পারেন না দায়িত্বে থাকা ওই রক্ষীরাই৷ এই অবস্থায় সিসিটিভি এবং ভবিষ্যতে মৃত পশু দাহর জন্য ইলেকট্রিক চুল্লির ব্যবস্থা করে বিতর্ক থেকে দূরে থাকার চেষ্টা করছে পুরসভা৷ 

পুরসভার এইপ্ৰকার উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন সোনারপুরের বাসিন্দারা৷ পুরসভা সূত্রের খবর, নাইট ভিশন সুবিধাযুক্ত এইচডি কোয়ালিটির কয়েকটি ক্যামেরা লাগানো হবে ডাম্পিং গ্রাউন্ডে৷ যাতে রাতের অন্ধকারে, কুয়াশার ভোরেও সব ছবি স্পষ্ট ধরা পড়বে৷ পাশাপাশি রাজপুর শ্মশান এবং সোনারপুর শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়গুলিতেও সিসিটিভি লাগানো শুরু করেছে পুরসভা৷ চেয়ারম্যান জানিয়েছেন, নিরাপত্তায় কোনও খামতি রাখা হবে না৷ সমস্ত সিসিভির মনিটরিং হবে পুরসভা থেকেই৷

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *