হার নিশ্চিত বিজেপি-র, নিজস্ব সমীক্ষায় আতঙ্কিত মোদী-শাহ জুটি

SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

নিজস্ব সংবাদদাতা

২০১৪-এ একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করেছিলো এন ডি এ-র প্রধান শরিক বিজেপি। মোদী ম্যাজিক বা “আচ্ছে দিন”-এর আশ্বাসে দেশবাসী দুহাত ভরে ভোট দিয়েছিলো গেরুয়া শিবির কে। একক ভাবে ২৮২ টি আসন জিতে সরকার গঠনের মূল কান্ডারী বিজেপির তাই কোনো ভাবে শরিকি সাহায্যের দরকার হয়নি। একপ্রকার প্রায় কোণঠাসা অবস্থায় তাচ্ছিল্যের শিকার হতে হয়েছিলো বাকি শরিকদের। অসন্তোষ থেকে ঘর ছেড়েছেন চন্দ্রবাবু নাইডু, হেল দোল ছিলো না তাতে শাসক শিবিরের। যদিও ভাগ্যের চাকা এমন পরিস্থিতি তৈরী করবে তা স্বপ্নেও ভাবতে পারেন মোদী-শাহ রা।

২০১৯ নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, তত সঙ্ঘবদ্ধ হচ্ছে বিরোধী দল গুলো। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস, আপ, আর জে ডি, ভি এস পি-র মতো শক্তিশালী প্রায় বহু বিরোধী দল গুলি ই ইতিমধ্যে ঈঙ্গিত দিয়েছে এক ছাতার তলায় লড়াই করে বিজেপি কে উৎখাত করার। সম্প্রতি কর্ণটকে সেই জোটে থাকার ঈঙ্গিত দিয়েছে বাম দলগুলোও। বিরোধী শিবির এর ঐক্য কতটা ফলপ্রসূ সেই হিসাব করতেই অভ্যন্তরীণ সমীক্ষা চালিয়েছিলো বিজেপি। সেই সমীক্ষাতেই প্রকাশ পায় গতবারের ২৮২ টি জেতা আসনের মধ্যে ১৫০ টি তে এবার হার নিশ্চিত বিজেপি-র। সেই তালিকায় আছে যোগী আদিত্যনাথের গোরক্ষপুর ও।

বিগত বেশ কিছু উপনির্বাচনে বার বার মুখ থুবড়ে পড়েছে বিজেপি-র জয়ের ঘোড়া। ত্রিপুরায় জয় ছাড়া বিশেষ কোনো সাফল্য ও নেই, উল্টে একাধিক ইস্যু নিয়ে বিরোধীদের সক্রিয়তা চাপে ফেলেছে বিজেপি কে। এখন ঘর বাঁচাতে তাই ভরসা শরীক দলগুলো ই।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

শিবসেনার মতো বহুদিনের শরিকের মান ভাঙাতেও একাধিক বৈঠক করতে হয়েছে শাহ কে। বেশ কিছু ছোট শরিক বার্তা দিয়েছে পাশে না থাকার যা দুশ্চিন্তা বাড়াচ্ছে গেরুয়া শিবিরের। নীতিশ কুমারের জেডিইউ ও সুযোগ বুঝে আসন নিয়ে দরকষাকষি শুরু করে দিয়েছে ফলে ঘরে বাইরে প্রবল চাপে বিজেপি।

২০১৪-এ কালো টাকা উদ্ধার ও আচ্ছে দিনের যে স্বপ্নে মানুষের সমর্থন পেয়েছিলেন মোদী শিবির তা নিছক ই আশ্বাস ছিলো বলেই মুখ ফিরিয়েছে আম জনতা বলেই মনে করছে অভিজ্ঞ মহল। বিদেশ থেকে কালো টাকা উদ্ধার তো দূরে থাক, দেশ থেকেই বহু টাকা লুটে নিয়ে বিদেশে চলে গেছে বিজেপি ঘনিষ্ঠ একাধিক ব্যবসায়ী। অন্য দিকে আচ্ছে দিনে নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিস থেকে জ্বালানি সবের ই দাম আকাশ ছোঁয়া। এমত পরিস্থিতি তে শুধু একক শক্তি কাজ করবে না সেটা হাড়ে হাড়ে বুঝেছেন বিজেপির ভোট ম্যানেজাররা।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

অন্যদিকে বিজেপি কে উৎখাত করতে যেভাবে তৎপরতার সাথে এগিয়ে এসেছে বিরোধী দলগুলো, বিশেষ করে প্রতি পদে বিজেপি বিরোধীতায় যে ভাবে সুর চড়িয়েছেন এরাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী সেটা অনেকটাই কনফিডেন্স বাড়িয়ে তুলেছে বাকি আঞ্চলিক দলগুলোর। সেখানে নিজেদের শরিক দের ধরে না রাখতে পারলে যে দ্বিতীয়বার প্রধানমন্ত্রীর চেয়ারে বসা হবেনা, সে কথা ভালোই জানেন নরেন্দ্র মোদীও।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *