চারের পর তিন, আবারও বিড়লা স্কুলে নিগৃহীত শিশু

জামাইবাবুর নির্যাতনের শিকার কিশোরী
SHARES
Share on FacebookShareTweet on TwitterTweet

ওয়েব ডেস্ক : একের পর এক যৌন নিগ্রহের অভিযোগে থমথমে গোটা রাজ্য। ৩০শে নভেম্বর রানিকুঠির জি ডি বিড়লা স্কুলের চার বছরের ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহের অভিযোগ ওঠায় যখন উত্তাল হয়েছে শহরতলি। তখন সামনে এল বেহালার এমপি বিড়লা স্কুলের তিন বছরের এর ছাত্রীর যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার ঘটনা। নিগৃহীতা ওই শিশুর পরিবারের অভিযোগ, স্কুলেরই দুই পুরুষ কর্মী তিন বছরের ঐ ছাত্রীকে যৌন হেনস্থা করে। শুধু তাই নয় অভিযোগ রয়েছে স্কুল কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধেও, তাঁরা জানিয়েছেন এই ঘটনায় বারবার স্কুল কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করা হলেও কর্তৃপক্ষের তরফে কোনও সাড়া মেলেনি। এমনকী এমন ঘটনার অভিযোগে ওই ছাত্রীকে মানসিক বিকারগ্রস্ত বলে দাবি করেন স্কুল কর্তৃপক্ষ।

তারপরই বেহালা থানায় এবিষয়ে অভিযোগ দায়ের করতে যান ঐ ছাত্রীর পরিবার তবে সেখানেও এফআইআর নিতে চায়নি পুলিশ। তবে এক্ষেত্রে জিডিবিড়লা-র থেকে একটু তফাৎ থাকায় মিলেছে কিছু প্রমাণ। স্কুলে সিসিটিভি থাকায় সেখানের ফুটেজ থেকে দেখা গেছে শৌচালয় থেকে আতঙ্কগ্রস্থ ওই ছাত্রী দৌড়ে বেরিয়ে আসছে।

বিড়লা স্কুলে নিগৃহীত শিশু
ছবি প্রতীকী

পরদিন ১৪ই সেপ্টেম্বর বেহালা থানায় অভিযোগ দায়ের করে পরিবার। একইসঙ্গে ২ জন অভিযুক্তকে শনাক্তও করে নির্যাতিতা ছাত্রী। কিন্তু এখনও পর্যন্ত অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ জানিয়েছেন নির্যাতিতা ছাত্রীর মা।

যদিও এবিষয়ে স্কুল কর্তৃপক্ষ কোনো অভিযোগ মেনে নেননি তবে তদন্ত চলছে বলে জানানো হয়েছে পুলিশি তরফে।

বিড়লা স্কুলে নিগৃহীত শিশু
রাণীকুঠিতে বিক্ষোভরত অভিভাবক রা

পাশাপাশি ঢাকায় সাড়ে তিন বছর বয়সি শিশু তানহা ধর্ষণের ঘটনায় বিক্ষোভের ঝড় উঠেছে সামাজিক মাধ্যমে৷ মাত্র সাড়ে তিন বছর বয়সের ঐ শিশুকে ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে সোমবার এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ৷

অভিযোগ, খাবারের প্রলোভন দেখিয়ে ঘরে ডেকে নিয়ে শিশু তানহাকে ধর্ষণের পর হত্যা করে লাশটি তানহাদের বাড়ির শৌচাগারে ফেলে যায়৷

এই ঘটনা নিয়ে সোশ্যাল মিডিয়ায় নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেকেই৷

প্রসঙ্গত প্রায় তিন মাস আগে ঠাকুরপুকুরের এক বেসরকারি ইংরেজি মাধ্যম স্কুলের নার্সারির এক ছাত্রীকে যৌন নিগ্রহ করার অভিযোগ ওঠে, স্কুলের দুই স্টাফের বিরুদ্ধে। তাদের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ করা হলেও পুলিশি তরফে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি বলেই অভিযোগ জানায় ঐ শিশুর পরিবার।

একের পর এক এমন ঘটনার পর ও ৩০শে নভেম্বরের ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার জি ডি বিড়লা স্কুলের সামনে পথনাটিকার মাধ্যমে সেই ঘটনাকে দৃশ্যমান করে তোলা হয়। এই পথনাটিকার মাধ্যমে সেখানে উপস্থিত সকলকে সচেতনতার বার্তা দেওয়া হয়।

এমনকী দুপুর ২টোয় ফেসবুক বাই লেনের মাধ্যমে যাদবপুর থানার সামনে জমায়েত হয়ে ঘটনার সঠিক বিচারের দাবী জানান বহু মানুষ ।

তবে এত কিছুর পরেও কী বন্ধ হবে এমন পাশবিক অন্যায়গুলি তা নিয়ে সন্দেহ থেকেই যাচ্ছে। এক্ষেত্রে সরকারী ক্ষেত্রের ভূমিকা নিয়ে যেমন প্রশ্ন উঠছে তেমনই নারী সুরক্ষা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন।

ADVERTISEMENT
ADVERTISEMENT

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *